নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট: সিলেটের প্রধান আকাশপথ ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর যেন এক ব্যক্তির অঘোষিত জায়গিরে পরিণত হয়েছে। বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপক হাফিজ আহমদের দীর্ঘ ১৬ বছরের একক আধিপত্য, সীমাহীন অনিয়ম এবং দুর্নীতির চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিপুল বিত্ত-বৈভবের মালিক হওয়া এবং রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে।
একই কর্মস্থলে দীর্ঘ অবস্থান ও বিত্তের পাহাড়:
সাধারণ নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করে হাফিজ আহমদ প্রায় দেড় যুগ ধরে একই সংস্থায় প্রভাবশালী অবস্থানে আসীন। অভিযোগ রয়েছে, এই দীর্ঘ সময়ে তিনি ঢাকা এবং সিলেটে একাধিক বিলাসবহুল বাড়ি ও ফ্ল্যাট নির্মাণ করেছেন। এমনকি বিদেশের মাটিতেও তার বিপুল সম্পদ রয়েছে বলে গোয়েন্দা তথ্যে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
সিন্ডিকেট ও অনিয়ম:
তদন্তে জানা গেছে, বিমানবন্দরের ছোট-বড় সব ধরনের কাজ, বিশেষ করে টেন্ডারবাজি, ক্যাটারিং এবং নিয়োগ বাণিজ্যে হাফিজের রয়েছে একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ। তার অনুগত একটি চক্র বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে জিম্মি করে রেখেছে। রাতের আঁধারে বিমানবন্দরের সংরক্ষিত এলাকায় প্রভাবশালীদের নিয়ে আসর বসানোর মতো গুরুতর অভিযোগও তার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের।
রাজনৈতিক খোলস পরিবর্তন:
পটপরিবর্তনের সাথে সাথে অত্যন্ত চতুরতার সাথে রাজনৈতিক পরিচয় বদলে ফেলায় সিদ্ধহস্ত এই কর্মকর্তা। বিগত সরকারের সময় যেমন প্রভাব বিস্তার করেছিলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটেও নিজের অবস্থান সুসংহত করতে তিনি মরিয়া হয়ে উঠেছেন। তার এই কৌশলী অবস্থানের কারণে বিমানবন্দরের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।
উর্ধ্বতন মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ:
ওসমানী বিমানবন্দরের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় স্থাপনার শৃঙ্খলা রক্ষার্থে এবং দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করতে অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল। এই হাফিজ সিন্ডিকেটের মূল উপড়ে না ফেললে বিমানবন্দরের সেবা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
Leave a Reply